শিরোনাম :
রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন

Reporter Name / ৫০ Time View
Update : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইউরোপিয়ান এবং নেটো নেতাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের আশঙ্কা অনুযায়ী ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে, এমন কোনো চুক্তিতে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকে।

কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই রোববার ট্রাম্প বলেছিলেন, জেলেনস্কিই শান্তির পথে প্রধান বাধা।

তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, উভয় পক্ষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে সেটির সাথে ” ঠিক আছে ” রাশিয়া।

যেটিতে ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের ছাড় ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন, যদিও ভবিষ্যতে ইউক্রেন আবার রাশিয়ার হামলার ঝুঁকিতে থাকবে বলে আশঙ্কা করেছিল তাদের মিত্ররা।

পলিটিকোর সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইউক্রেনের আলোচক বা সমঝোতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত প্রস্তাবকে ‘পছন্দ করেছে’।

কিন্তু জেলেনস্কি এখনো সেটি পড়েও দেখেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

নির্বাচন আয়োজনের জন্য কিয়েভের প্রতি আহ্বান পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, নির্বাচন না করার কারণ হিসেবে ‘যুদ্ধকে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আপনি জানেন, তারা গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু তা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তা আর গণতন্ত্র থাকে না।”

২০২৪ সালের মে মাসে জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু রাশিয়ার হামলা কারণে মার্শাল ল জারির পর থেকে ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ‘নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত’ এবং আইন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলবেন।

সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সহায়তায় নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাহলে আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

পলিটিকোর সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মতাদর্শগত বিভাজন এখন ইউরোপের সঙ্গে ওয়াশিংটনের জোটকে ভাঙার হুমকির মুখে ফেলেছে।

যেসব নেতাদের ট্রাম্প দুর্বল বলে মনে করেন, তারা এখনও মিত্র হতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা নির্ভর করে।”

“আমি মনে করি তারা দুর্বল কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে তারা রাজনৈতিকভাবে সঠিক হতে চান। আমার মনে হয় তারা জানেন না কী করতে হবে ” বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৩ পৃষ্ঠার সংবলিত নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এসেছে।

এতে ইউরোপের সম্ভাব্য ‘সভ্যতাগত বিলুপ্তি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে এবং কিছু দেশ এখনও নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসাবে থাকতে পারেন কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত না করায় এই কৌশলকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়া। যা মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে “অনেকাংশই সামঞ্জস্যপূণ।”

মঙ্গলবার ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যদি এই পথে চলতে থাকে তাহলে ইউরোপের অনেক দেশ আর টিকে থাকার মতো অবস্থায় থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, “অভিবাসন নিয়ে তারা যা করছে তা এক বিপর্যয়।”

অভিবাসন নিয়ে “খুব ভালো কাজ করছে ” বলে হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বেশির ভাগ ইউরোপিয়ান জাতি ‘ তলানির ‘ দিকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার এই কৌশলের প্রতিক্রিয়ায় জার্মান চ্যান্সেলন ফ্রেডরিখ মার্জ বলেন, এর কিছু অংশ যুক্তিসঙ্গত এবং কিছু অংশ বোধগম্য কিন্তু ইউরোপিয়ান দৃষ্টিকোণ থেকে অন্যান্য অংশ অগ্রহণযোগ্য।

ইউরোপে ‘গণতন্ত্র রক্ষায়’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন আছে, এমন ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, ইউরোপিয়রা নিজেরাই এ ধরনের প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে পারে।

এ বছরের শুরুতে ট্রাম্প জাতিসংঘে যে ভাষণ দিয়ে ছিলেন, এই কৌশলটিও প্রায় সেটিরই অনুরূপ। যেখানে তিনি পশ্চিম ইউরোপের অভিবাসন ও ক্লিন এনার্জি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category