শিরোনাম :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না?

Reporter Name / ৫২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

‘অনিশ্চয়তা’ ও ‘শঙ্কা’ নিয়ে সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বা জাপা। তবে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে।

এই ইস্যুতে বিএনপি ‘নমনীয়’ অবস্থানে আছে বলে দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে। তবে আপত্তি জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের।

 

অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়লেও ভোটের মাঠে নানা সমীকরণে তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বর্তমান সক্রিয় দলগুলো।

ভোটের তফসিল ঘোষণার পর রাজনীতি যখন নির্বাচনমুখী, এর মধ্যেও জাতীয় পার্টি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটের অন্য শরিকেরা নিশ্চিত নয় যে তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না। তাদের বিষয়ে শেষপর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার কী অবস্থান, তাও স্পষ্ট নয় ওই দলগুলোর কাছে।

জাতীয় পার্টিই প্রধান বিরোধী দল ছিল বিগত তিনটি সংসদ, অর্থাৎ দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে। বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা এবং সংসদে ভূমিকার কারণে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ তকমা পেয়েছে জাতীয় পার্টি।

আর আওয়ামী লীগ শাসনের পতনের পর জাতীয় পার্টির জন্য জুটেছে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ তকমা।

অতীত ভূমিকার জন্য জাতীয় পার্টিকে খেসারত দিতে হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনে ১৬ মাস ধরে। দলটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাতে বাধার মুখে পড়ছে।

এমনকি দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি তুলছে জামায়াত, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দল।

এখন জাতীয় পার্টি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারলেও তারা প্রচারণা চালাতে পারবেন কি না-এই আলোচনাও চলছে।

১৪ দলীয় জোটের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদসহ শরিক দলগুলো আওয়ামী লীগ শাসনে ব্যস্ত ছিল আসন ভাগাভাগির সমঝোতার মাধ্যমে সংসদে যাওয়া এবং ক্ষমতার ভাগ পাওয়া নিয়ে। ফলে এই দলগুলোর নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল থেকে দুর্বল হয়েছে এবং অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের এই মিত্রদের ভোটের মাঠে নামার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দল। যদিও বিএনপির অবস্থান নমনীয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের কারও ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিকূল পরিবেশে এককভাবে নির্বাচন করার সাংগঠনিক অবস্থা আছে কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category